Tuesday 9 April 2013

islam

একটু বড় পোষ্ট।ধৈর্য ধরে পড়লে আপনারই ফায়দা হবে। 
আপনি কি শহীদ আলীমুদ্দীন রহঃ কে চিনেন?না চিনলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে চেনা খুব প্রয়োজন।চলুন তাকে চিনে নেই… 
১৯২৪ সাল।পাকিস্তানের লাহোরে জনৈক রাজপাল রাসূল সাঃ কে ব্যাঙ্গ করে "রঙ্গীলা রাসুল" নামে একটি বই প্রকাশ করে।যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে মুসলমানদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।মুসলমানরা রাজপালের শাস্তি দাবী করে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানায়।ব্রিটিশ সরকার গড়িমসি করে অবশেষে রাজপালকে কয়েকবছরের জেল দেয়।কিন্তু নবী প্রেমিক মানুষের দাবী ছিল তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হোক।কিন্তু সরকার তাকে লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেয়।মুসলমানরা এটা মানতে পারেনি।কারন ইসলামী আইনানুযায়ী নবী অবমাননার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড।রাজপালে শাস্তি না মেনে নিতে পারা এমনি এক ব্যাক্তি ছিলেন আলীমুদ্দীন(কেউ বলে ইলমুদ্দীন) 
যখন রাজপাল জেল থেকে ছাড়া পেল তখন সে আলীমুদ্দীনের হাতে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়।আলীমুদ্দীন নবী প্রেমিক ছিলেন।নবী সাঃ এর অবমাননা করে এই কুলাঙ্গার রাজপালের বেচে থাকাটা তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না।তাই তাকে হত্যা করেন।ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পন করেন।তার আত্মসমর্পনে আদালত খুব অবাক হয়।যে কতটুকু সাহস থাকলে একজন মানুষ একজনকে হত্যা করে আবার আদালতে এসে আত্মসমর্পন করতে পারে! 
কিন্তু আলীমুদ্দীন ছিলেন নির্বিকার।কারন তিনি তো কোন অপরাধ করেন নি!তিনি নবী অবমাননার প্রতিশোধ নিয়েছেন।তাই তার চোখেমুখে প্রশান্তির চিহ্ন ফুটে উঠছিলো।যাই হোক আদালতে আলীমুদ্দীনের ফাসীর রায় হয়।সমস্ত মুসলমান তখন আলীমুদ্দীনের পক্ষে।তারা সবাই আলীমুদ্দেনের ফাসীর বিরোধীতা করে।কিন্তু জালিম সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে আলীমুদ্দীনের ফাসীর রায় কার্যকর করে। 

========================= 
ফাসিকাষ্ঠে আলীমুদ্দীনঃ 
যখন তাকে যমমুখোশ পড়ানো হয় তখন সে হেসে উঠে।কারন জানতে চাইলে সে বলে " আমাকে তাড়াতাড়ি ফাসি দাও,ফেরেশতারা আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসছে।আমি তাদের দেখতে পাচ্ছি।" 
জল্লাদ তার এই কথাকে পাগলের প্রলাপ ভেবে ফাসিতে ঝুলিয়ে দেয়।তৎক্ষনাৎ শহিদী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নবীপ্রেমিক আলীমুদ্দীন নামক এক মর্দে মুজাহিদ।যাকে ইতিহাস আজো শহীদ গাজী আলীমুদ্দীন রহঃ নামে শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে। 

প্রতিক্রিয়াঃ অনেকেই বলেন মুসলমানরা ভিন্নমত সহ্য করতে পারেনা।তাদের একথা চরম ভুল!! শত শত বছর ধরে মুসলিম আলেমগন বিধর্মী/ভিন্নমতালম্বীদের প্রশ্নের সকল জবাব সুন্দর এবং স্পষ্ট ভাষ্যে দিয়ে আসছেন।যদি না দিতেন তাহলে বলা যেত মুসলিমরা ভিন্নমত সহ্য করেনা।দাড়ান প্রমান দিচ্ছি… 
লাহোর থেকে আর্য পণ্ডিত দয়ানন্দ স্বরসতীর বই প্রকাশিত হয়েছিল।যে বইয়ে কুরআন কারীম নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন করা হয়।আল্লামা কাসেম নানুতুবী রহঃ এবং মাওলানা সানাউল্লাহ অমৃতসরী রহঃ কিতাব লিখে তার জবাব দিয়েছিলেন। 
তাই যারা বলেন ইসলাম ভিন্নমতকে সহ্য করেনা তারা ভুল বলেন।ইসলাম সহ্য করেনা অবমাননা।যার প্রমান সেই লাহোরেই সংঘটিত হওয়া রাজপালের ঘটনা।অবমাননা আর ভিন্নমতকে একত্রে গুলিয়ে ফেলা উচিৎ না।বর্তমানের নবী সাঃ এর অবমাননাকারী নাস্তিকদের ব্যাপারে একই সিস্টেম।তোমরা নাস্তিকতা কর,এটা তোমার ব্যাক্তিগত ব্যাপার।কিন্তু আমার নবীকে নিয়া কটুক্তি করবা?হাসু বুবু সহ পৃথিবীর কেউই তোমাদের রক্ষা করতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ…কেননা আজো বাংলাদেশে লাখো লাখো আলীমুদ্দেন রয়ে গেছে…আমি তোমাদের হুমকি দিচ্ছিনা!কথাগুলা সাবধান হওয়ার জন্য বললাম।আশা করি ব্যাপারটা খোলাসা হয়েছে। 
========== 
পোষ্টখানা শেয়ার করার অনুরোধ রইলো!


by mustafa karim....

No comments:

Post a Comment